স্মার্টফোন,কি এবং কেন ??

প্রযুক্তি এর কল্যাণে আজ স্মার্টফোন কথাটি আমাদের অতি পরিচিত । বুড়ো , জোয়ান সবার কাছেই স্মার্টফোন হয়ে উঠেছে “বেস্ট ফ্রেন্ড”। কিন্তু কোন জিনিসটি আমাদের স্মার্টফোনকে করে তুলছে “স্মার্ট” ? শুধু টাচস্ক্রীন থাকলেই কি তা স্মার্টফোন?
না। আর কোন জিনিসটি আমাদের স্মার্টফোনকে সেলুলার ফোন থেকে আলাদা করে তুলছে তা না জানলেই নয়!! (স্মার্টফোন-সম্প্রদায় রাগ করে বসবে তো!!)

আমাদের স্মার্টফোন এবং সেলুলার ফোনের মধ্যে তফাৎ হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার দুটোতেই। অর্থাৎ শরীর আর মন , দুদিক থেকেই তারা আলাদা। বলা যায় সময়ের সাথে সাথে সেলুলার ফোনের বিবর্তন হয়েই সৃষ্টি হয়েছে আমাদের আধুনিক স্মার্টফোনের (স্মার্টফোনও দেখি ডারউইন এর  বিবর্তনবাদ মেনে চলে!!!) ।
ezgif.com-gif-maker-3

যেসব বিষয় আমাদের স্মার্টফোনকে ভিন্ন করে তোলেঃ
১।  অপারেটিং সিস্টেম (OS)
২।  অ্যাপ্লিকেশনস্‌
৩।  নেটওয়ার্ক
৪।  QWERTY কীবোর্ড

অপারেটিং সিস্টেম (OS) :

অপারেটিং সিস্টেম তুলনা করা যায় মানুষের ব্রেইনের সাথে । সাধারণভাবে, একটি স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেম দ্বারাই চালিত হয় । এটি বিভিন্ন  অ্যাপ্লিকেশন চালনা ,হার্ডওয়্যার কে বিভিন্ন নির্দেশ প্রদানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।

 

অ্যাপলের আইফোন iOS , ব্ল্যাকবেরি স্মার্টফোন Blackberry OS দ্বারা রান করে । অন্যান্য ডিভাইসগুলো   গুগলের Android OS ,এইচপি এর  webOS এবং মাইক্রোসফট এর Windows ব্যাবহার করে থাকে।

 অ্যাপ্লিকেশনস্‌ ঃ

সেলুলার ফোন যদিও কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যাপস্‌ ব্যবহার করে থাকে সেগুলো ইউজার ইচ্ছে অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারে না । স্মার্টফোন এ দিক থেকে আসলেই স্মার্ট। এ ফোনগুলতে তুমি তোমার পছন্দের এক বা একাধিক অ্যাপস্‌ রাখতে পারো। সেগুলো একি কাজের হতে পারে আবার ভিন্ন কাজও  করতে পারে। যেমনঃ একটি মোবাইল এ ক্যালকুলেটর এর অ্যাপই রাখতে পারা যাবে একাধিক!!!

 নেটওয়ার্কঃ

আধুনিক স্মার্টফোন আমাদের সবচেয়ে বেশি যেদিকে সুযোগ দিয়েছে তা হল ইন্টারনেট এর দিক থেকে। সেলুলার ফোন কেবল 2G স্পীড সাপোর্ট করে। ( সেল ফোনে একবার ফেসবুক চালানোর চেষ্টা করো , স্মার্টফোন এর প্রতি কদর শ’গুণ বৃদ্ধি পাবে!)
অন্যদিকে আমাদের স্মার্টফোনের হার্ডওয়্যার এ লেগেছে প্রজুক্তির ছোঁয়া । উন্নত হার্ডওয়্যার এর কল্যাণে আমরা এখন ব্যাবহার করতে পারি 3G, 4G ও LTE গতির ইন্টারনেট। 3G ও  4G আমাদের দেয় সর্বোচ্চ 3.1 Mbps ও 12 Mbps যথাক্রমে। তাই স্মার্টফোন এখন আমরা মুভি  ও গান দেখা , অনলাইন গেমিংসহ আরো হাজারো কাজ করছি দ্রুততার সাথে। “তো আমাদের এই দ্রুতগতির বন্ধুটির জন্য কয়টি Like ফ্রান্স ?!” 😛

 QWERTY কীবোর্ডঃ

কম্পিউটার এ আমরা এই নির্দিষ্ট ধরনের কি-বোর্ড ব্যাবহার করি তারই নাম QWERTY কি-বোর্ড। স্মার্টফোন এর এটি এক্তি অনন্য সুবিধা। আমাদের স্মার্টফোন এর ডিফল্ট কীবোর্ড QWERTY ধরনের থাকে। আমাদের পুরন আমলের কী-প্যাড যুক্ত ফোনগুলোতে নাম্বার-প্যাড এর সাথেই যুক্ত থাকতো বর্ণমালা। এতে মোটামোটি মাঝারি মাপের একটি টেক্সট লিখতেই আমাদের এভারেস্ট জয়ের মত পরিশ্রম করে থাকতে হত। কিন্তু বর্তমানে QWERTY ধরনের কীবোর্ড যুক্ত থাকায় অনায়াসেই মনের যতো জল্পনা-কল্পনা আজ আমরা প্রকাশ করতে পারি।এছারা আমরা নানা কীবোর্ড এর অ্যাপস্‌  ও  ডাউনলোড করতে পারি। যেমনঃ Swift Keyboard, Emoji K ইত্যাদি।

আশা করি, স্মার্টফোন নিয়ে ভাল একটি ধারনা পাওয়া গিয়েছে।  স্মার্টফোন নিয়ে এত জ্ঞান তোমাকে “স্মার্ট” অনুভব করাচ্ছে আমি জানি, বন্ধুদের সামনে একটু ভাব মারতেই পারো নাহয়, কিন্তু মনে রাখবে জানার কোনো শেষ নেই!! তো লেগে পড়ো স্মার্টফোন ব্যবহারে।
[বি দ্রঃ কোন এক মহাপুরুষ বলেছিলেন ঃ
” ওহে বৎস , স্মার্টফোন ব্যবহার মানেই ফেসবুক চালানো নয়!!!”
মহাপুরুষটা সম্ভবত কারো আব্বু  😛 ]

15 thoughts on “স্মার্টফোন,কি এবং কেন ??

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s